হাঁস-মুরগির জাত
আসিলঃ
উৎপত্তিঃ
আসিল অর্থাৎ আসল বা খাঁটি। এটি বাংলাদেশের একটি বিশুদ্ধ জাতের মুরগি। চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানা ও ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইল থানায় এ জাতের মুরগি পাওয়া যায়।
বৈশিষ্ট্যঃ
১. এদের দেহের গঠন বলিষ্ঠ ও দৃঢ়, গলা ও পা দুটো লম্বা।
২. এদের মাথা বেশ চওড়া এবং মাথায় মটর ঝুঁটি থাকে।
৩. দেহে পালক খুব কম থাকে ও পালকের রঙ লাল হয়।
Department of Livestock Services
উপযোগীতাঃ
এরা বেশ বড় হয়। এ জাতের মোরগ ভালো লড়াই করতে পারে। তাই অনেকে শখ করে এদের পালন করে থাকে। এদের মাংস খুব সুস্বাদু। প্রাপ্ত মোরগ ও মুরগীর ওজন যথাক্রমে ৪.০ - ৪.৫ এবং ৩.০- ৩.৫ কেজি।
ফাউমিঃ
উৎপত্তিঃ
এ জাতের মোরগ-মুরগীর উৎপত্তিস'ল মিশর।
বৈশিষ্ট্য
১. পালকের রং কালো ও সাদা ফোটা ফোটা, ঘাড়ের পালক সাদা।
২. কানের লতি এবং গায়ের চামড়া সাদা।
৩. ডিমের খোসা সাদা।
৪. ডিমের খোসা সাদা।
৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি।
Department of Livestock Services
উপযোগীতাঃ
ডিম উৎপাদনকারী জাত হিসাবে পরিচিত এ জাত আমাদের দেশীয় আবহাওয়ায় পালনের উপযোগী। এদের বার্ষিক গড় ডিম উৎপাদন ১৫০- ২০০ টি।
রোড আইল্যান্ড রেডঃ
উৎপত্তিঃ
আমেরিকার রোড আইল্যান্ড রেড নামক স্হানে। সংক্ষেপে এদেরকে আর আই আর বলা হয়।
বৈশিষ্ট্যঃ
১. এদের পালকের রং লাল কিন' পাখা ও লেজের পালকের মাথায় কালো দাগ থাকে।
২. গায়ের চামড়া হলদে এবং কানের লতি আকারে ছোট ও লাল রঙের।
৩. ডিমের খোসার রং বাদামি।
উপকারিতাঃ
মাংস ও ডিম উভয় উদ্দেশ্যেই এ মুরগি পালন করা হয়ে থাকে। পূর্ণ বয়স্ক একটি মোরগের ওজন ৩-৪ কেজি ও মুরগীর ওজন ২.৫- ৩ কেজি। এদের বার্ষিক ডিম উৎপাদন ১৫০- ২০০ টি।
সোনালী
উৎপত্তিঃ
আর আই আর জাতের মোরগ-এর সাথে ফাউমি জাতের মুরগীর মিলনে সৃষ্ট জাত।
বৈশিষ্ট্যঃ
১. মোরগের গায়ের রং সোনালীর মধ্যে কালো, পাখায় সাদা ফোটা ফোটা। মুরগীর গায়ের রং হলুদ কালো।
২. আকারে মাঝারি। ডিমের খোসা ক্রিম বর্নের।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি।
Department of Livestock Services
উপযোগীতাঃ
ডিম উৎপাদনকারী জাত হিসাবে পরিচিত এ জাত আমাদের দেশীয় আবহাওয়ায় পালনের উপযোগী। পূর্ণ বয়স্ক একটি মোরগের ওজন ২- ২.৫ কেজি ও মুরগীর ওজন ১.৫- ২ কেজি। এদের বার্ষিক গড় ডিম উৎপাদন ১৫০- ২০০ টি।
হোয়াইট লেগহর্ণ
উৎপত্তিঃ
এ মুরগী ভূমধ্যসাগরীয় জাতের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এর উৎপত্তিস্হল ইটালীর লেগহর্ন নামক স্হানে।
বৈশিষ্ট্যঃ
১. পালকের রং এবং কানের লতি সাদা।
২. গায়ের চামড়ার রং হলুদ এবং ডিমের খোসার রং সাদা।
৩. আকারে ছোট ও ওজনে হালকা।
৪.পূর্ণ বয়স্ক মোরগের ওজন ২- ৩ কেজি এবং মুরগীর ওজন ১.৫- ২ কেজি।
৫. ৫/৬ মাস বয়সে ডিম পাড়া শুরু করে।
উপযোগীতাঃ
এ জাতের মুরগী ডিম উৎপাদনের জন্য সবচেয়ে পরিচিত জাত। বার্ষিক ডিম উৎপাদন ২০০- ২৫০ টি।
পিকিং / বেজিনঃ
উৎপত্তিঃ
এ জাতের হাঁসের উৎপত্তি চীন দেশে।
বৈশিষ্ট্যঃ
১. পালকের রং সাদা।
২. ডিমের রং সাদা।
৩. দেহের আকার বড়।
Department of Livestock Services
উপযোগীতাঃ
ইহা মাংসের জন্য প্রসিদ্ধ কারণ প্রাপ্ত বয়স্ক একটি হাঁসা প্রায় ৪.৫ কেজি এবং একটি হাঁসী ৪ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। বৎসরে গড়ে প্রায় ১৫০ টি ডিম দেয়।
মাসকোভিঃ
উৎপত্তিঃ
এ জাতের হাঁসের আদি জন্মস্হান দক্ষিণ আমেরিকা।
বৈশিষ্ট্যঃ
১. পালকের রং সাদা ও কলো।
২. মাথায় লাল ঝুটি।
৩. ডিমের রং সাদা।
৪. দেহের আকার বড়।
Department of Livestock Services
উপযোগীতাঃ
এ জাতের হাঁস মাংসের জন্য প্রসিদ্ধ কারণ প্রাপ্ত বয়স্ক একটি হাঁসা প্রায় ৫ কেজি এবং একটি হাঁসী ৪ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। বৎসরে গড়ে প্রায় ১২০ টি ডিম দেয়।
খাকী ক্যাম্পবেলঃ
উৎপত্তিঃ
ইহার উৎপত্তিস্হল ইংল্যান্ড।
বৈশিষ্ট্যঃ
১. পালকের রং খাকী বিধায় খাকী ক্যাম্পবেল নামকরণ করা হয়েছে।
২. ডিমের রং সাদা।
৩. ঠোঁট নীলাভ/কালো।
Department of Livestock Services
উপযোগীতাঃ
ডিম-এর উদ্দেশ্যে এ জাতের হাঁস পালন করা হয়। বার্ষিক ডিম উৎপাদন গড়ে ২৫০- ৩০০ টি। বয়ঃ প্রাপ্তদের ওজন ২- ২.৫ কেজি হয়ে থাকে।
জিনডিং
উৎপত্তিঃ
ইহার উৎপত্তিস্হল চীন।
বৈশিষ্ট্যঃ
১. হাঁসীর পালকের রং খাকীর মাঝে কালো ফোটা এবং হাঁসার কালো ও সাদা মিশ্রিত।
২. ডিমের রং নীলাভ।
৩. ঠোঁট নীলাভ/হলদে।
Department of Livestock Services
উপযোগীতা
ডিম-এর উদ্দেশ্যে এ জাতের হাঁস পালন করা হয়। বার্ষিক ডিম উৎপাদন গড়ে ২৭০- ৩২৫ টি। বয়ঃ প্রাপ্তদের ওজন ২- ২.৫ কেজি হয়ে থাকে।